Airplane Mode কী এবং এটি কী জন্য কাজ করে?

সবাই এনড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। আখনে অনেক ফিচার আছে যা আমরা সব গুলি ব্যবহার করি। আবার অনেকেই সব গুলি ব্যবহার করি না। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ফ্লাইট মোড। ফ্লাইট মোড ও অনেক মানুষ ব্যবহার করে। আবার কেউ বুঝেই না যে ফ্লাইট মোড কি এবং এর কাজ কি? আজকে আমি আপনাদের কাছে ফ্লাইট মোড এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানাবো। আর জানাব এটা কি?

ফ্লাইট মোড কি?

ফ্লাইট মোড হচ্ছে এমন একটি এনড্রয়েড এর ফিচার যেটি খুব জনপ্রিয়। আপনি যদি মোবাইলে ফ্লাইট মোড অন করে রাখেন, তাহলে আপনার মোবাইলে নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাবে। এবং Bluetooth ও Wifi আরো ওয়ারলেস কানেকশন গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এটি ওন করলে আপনার মোবাইলে কল আসবে না। এবং যত ওয়ারলেস কানেকশন আছে সব বন্ধ করে দেয় এই ফ্লাইট মোড।

বিমান মোড কি?

আপনার স্মার্টফোনে আপনারা অবশ্যই ফ্লাইট মোড নামে একটি ফিচার দেখেছেন।আপনি যদি ভ্রমণের জন্য বিমান ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনি সম্ভবত এটি বহুবার ব্যবহার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে, অনেকেই জানেন না যে ফ্লাইটের মোডটি কী? তবে শেষ পর্যন্ত।এটি আর কোথায় ব্যবহৃত হয়? আপনিও যদি এ বিষয়ে বেশি কিছু না জানেন তবে চিন্তার দরকার নেই। এটি কারণ আজ আমরা এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে ফ্লাইট মোডটি সম্পর্কে জানিয় দিব।

যাইহোক, ফ্লাইট মোড বা এয়ারপ্লেন মোড নামে পরিচিত এটি খুব প্রয়োজনিও ফিচার। এর প্রচুর বর্ননা গুগল ও ইউটিউব এ রয়েছে। এটি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারণে আমরা এটিকে সঠিক জায়গায় এবং সঠিক উপায়ে ব্যবহার করতে পারছি না। এ কারণেই আজ আমি ভেবেছিলাম আপনার বাংলাতে বালো করে বিমান মোড সম্পর্কে তথ্য দেওয়া উচিত যাতে আপনারা সহজেই এটি বুঝতে পারেন এবং আরও ভালভাবে ব্যবহার করতে পারেন।

ফ্লাইট মোড বা বিমান মোড কী?

বিমান মোড এমন একটি মোড যা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের ওয়্যারলেস সকল কানেকশন বন্ধ করে দেয়।

আপনি যখন ফ্লাইট মোড সেটিংটি অন করেন, তখন ফ্লাইট মোড আপনার ফোনে সেলুলার ভয়েস এবং ডেটা কানেকশন বন্ধ করে দেয় । কিছু সময় এটি Wi-Fi এবং ব্লুটুথ কেউ সাধারণ ভাবে বন্ধ করে দেয়।

ফ্লাইট মোডকে কেন এয়ারপ্লেন মোড বলা হয়?

ফ্লাইট মোডকে এয়ারপ্লেন মোড বলা হয়ে থাকে। কারণ এগুলি আপনার ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় বেশি ব্যবহার করে থাকেন এবং ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় আপনার মোবাইল সুরক্ষিত রাখতে তৈরি করা হয়েছে। ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় আমাদের মোবাইলের নেটওয়ার্ক কানেকশন ওন থাকলে প্লেনে হস্তক্ষেপ করে। এই হস্তক্ষেপটি প্লেনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামকে এবং আপারেটরকে বাধা গ্রস্থ করে। প্লেনের কন্ট্রোল রুমের সাথে যে কানেকশন থাকে সেটি তেও বাধা গ্রস্থ করে।

বিমান মোড এর কাজ কি?

এই প্রশ্নটি সম্ভবত অনেকের মনেই থাকবে যে সর্বোপরি এয়ারপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড আসলে কী করে? আপনি যে কোনও ডিভাইসটি ব্যবহার করতে চান – একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, আইফোন, আইপ্যাড, উইন্ডোজ ট্যাবলেট বা অন্য কোনও – আপনি যখন বিমান মোড বা ফ্লাইট মোড সক্রিয় করেন, তখন এটি কিছু হার্ডওয়্যার ফাংশন অক্ষম করে। এর মধ্যে রয়েছে:

 

1. সেলুলার : আপনার ডিভাইস সেল টাওয়ারগুলির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে। ফলস্বরূপ, আপনি না কাউকে ভয়েস কল এবং এসএমএস করতে পারবেন না আপনি মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়াও আপনি অন্যের কাছ থেকে কোনও ধরণের ভয়েস কল এবং এসএমএস পেতে পারবেন না।

 

২. ওয়াই-ফাই : আপনার ফোনটি নিকটস্থ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কগুলিতে স্ক্যান করা বন্ধ করে এবং তাদের সাথে যোগদানের চেষ্টাও বন্ধ করে দেয়। যদিও আপনি যদি ইতিমধ্যে একটি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকেন তবে আপনি এটির সাথে সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

 

৩. ব্লুটুথ : বিমান মোড ব্লুটুথ অক্ষম করে, যা একটি বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি যা বেশিরভাগ লোকেরা তাদের ওয়্যারলেস হেডসেটগুলি সংযুক্ত করতে ব্যবহার করে।

৪. জিপিএস : বিমান মোড বা ফ্লাইট মোড জিপিএস গ্রহণকারী ফাংশনগুলিকে অক্ষম করে তবে কেবল কয়েকটি ডিভাইসে। এটি বুঝতে কিছুটা বিভ্রান্তিকর এবং বেমানান বলে মনে হতে পারে। তত্ত্ব অনুসারে, জিপিএস অন্যান্য প্রযুক্তি অনুসারে কিছুটা পৃথক হয়, কারণ জিপিএস সহ কোনও ডিভাইস কেবল তারা প্রাপ্ত জিপিএস সংকেত শুনতে পারে, যেখানে এটি সংকেত প্রেরণ করে না। হয় এটি সত্ত্বেও, কিছু বিমান বিধিমালা জিপিএস গ্রহণের ফাংশনগুলি ব্যবহার করার অনুমতি দেয় না।

যখন বিমান মোড সক্ষম থাকে, আপনি আপনার ডিভাইসের বিজ্ঞপ্তি বারে একটি বিমান আইকন দেখতে সক্ষম হবেন যা আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস, আইফোন এবং আইপ্যাডের শীর্ষ বারে উপস্থিত হয়। আপনি বিমানটিতে আপনার ডিভাইসগুলিও ব্যবহার করতে পারেন – এমনকি যখন এটি নেওয়া এবং অবতরণ হয় – যতক্ষণ না আপনার ডিভাইসে বিমান মোড সক্ষম থাকে এটির সাথে এগুলি পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই।

মানুষ ফ্লাইট মোড কেন ব্যবহার করে?

অনেক সময় অচেনা মানুষ আমাদের মোবাইলে কল করে এবং কেউ যদি বিরক্ত করে তাহলে মোবাইল বন্ধ করে রাখি। যেন আর বিরক্ত না করতে পারে। আর তখন মোবাইলে কল করেলে কল আসে না। কারন মোবাইল বন্ধ করলে নেটওয়ার্ক কানেকশন থাকে না। মোবাইল বন্ধ করলে আমরা অন্ন কোনো কিছু মোবাইলে করতেও পারি না। অনেক সময় নেটওয়ার্ক ছাড়া অন্যান্য কাজ মোবাইল দিয়ে করি। যেমন: অফলাইন গেমস খেলি, গান শুনি, মুভি দেখি ইত্যাদি কাজ করি। এই জন্য ফ্লাইট মোড হচ্ছে এমন একটি এনড্রয়েড মোবাইল এর ফিচার যেটি ওন করেও আপনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এবং নেটওয়ার্ক কানেকশনও থাকবেনা। আপনি মোবাইল ফোন বন্ধ করলে যা হতো তা এই ফ্লাইট মোড ওন করেলেও হবে।

মতামত

আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি ভালো লাগছে। আপনাদের মতামত জানাতে commment box এ পোস্ট করুন।আপনারা এই  airplane mode বেবহার করে দেখুন আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেল ভালো লাগবে।

Post a Comment

0 Comments